চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ৪ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৪ হাজার ১০৪ কোটি টাকার পণ্য। এ হিসেবে আমদানি কম হয়েছে ৭৭০ কোটি টাকার।
বন্দরের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে পণ্য আমদানিতে। ফলে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য আমদানি কমেছে। পাশাপাশি অসম প্রতিযোগিতার কারণে এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে পণ্য আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ২৮ হাজার ৯৫০ টন। যার মূল্য ৪ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে ১৪ লাখ ২১ হাজার ৪৮৯ টন পণ্য আমদানি হয়েছিল। যার মূল্য ছিল ৪ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আমদানি কমেছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৩৯ টন।
ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার বণিক বার্তাকে জানান, তার প্রতিষ্ঠান চাল, মসুর ডাল, পেঁয়াজ, শুকনা মরিচসহ সারা বছর বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য আমদানি করলেও বর্তমানে তা নিম্নমুখী। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘একদিকে দেশজুড়ে চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্যদিকে ডলার সংকট তো রয়েছেই। এসবের প্রভাব পড়েছে বন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে।’ ফলে গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তার প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের পণ্য আমদানি কমেছে ১৫-২০ শতাংশ।
ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ অসম প্রতিযোগিতা—এমন মন্তব্য করেছেন আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিএম করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল গফুর সরদার। তিনি বলেন, ‘বেনাপোল স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পান তার কিছুই পান না ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারীরা। এখানে পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের দুই দফায় টাকা গুনতে হয়। অথচ বেনাপোল স্থলবন্দরে সেটা হয় না। এছাড়া ফল আমদানিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে পচনশীল হিসেবে প্রতি ট্রাকে দুই থেকে আড়াই টন শুল্ক ছাড় পাওয়া যায়, কিন্তু ভোমরা স্থলবন্দরে এমনটা হয় না। এ কারণে ব্যবসায়ীরা এ অসম প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন।’
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা বণিক বার্তাকে জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমেছে। তিনি বলেন, ‘চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের বড় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে পিছিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া ভোমরা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বরাবরই বৈষম্য করে থাকে।’